আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইয়ামালের স্পেন
ঢাকা টুডে ২৪ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০২:১৯ পিএম
১৬ বছর পর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন
নিউ জার্সির আকাশে তখন ভেসে বেড়াচ্ছে ইউরোপীয় রক ব্যান্ড ইউরোপ–এর অমর গান The Final Countdown। বিশাল স্টেডিয়ামের প্রতিটি স্পিকার যেন জানিয়ে দিচ্ছিল, ইতিহাসের শেষ অধ্যায় লেখার সময় এসে গেছে। গানের শেষ সুর মিলিয়ে যেতেই আবার গড়াল বল। আর মাত্র ৩৭ সেকেন্ডের মধ্যেই বদলে গেল একটি বিশ্বকাপের ভাগ্য।
ডান প্রান্ত থেকে পেদ্রো পোরোর নিখুঁত ক্রস। নিকো উইলিয়ামস হেডে বল নামিয়ে দিলেন পেছনে, আর সুযোগ বুঝে ফেরান তোরেস ঠেলে দিলেন জালে। ১০৬ মিনিট ধরে যে ফাইনাল এক ফোঁটা গোলের অপেক্ষায় ছিল, সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল এক স্পর্শেই। স্কোরবোর্ডে জ্বলে উঠল—স্পেন ১, আর্জেন্টিনা ০।
সেই মুহূর্তে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ কিংবা আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের কারও কিছুই করার ছিল না। এক প্রান্তের গ্যালারি লাল-হলুদের উল্লাসে ফেটে পড়ল, অন্য প্রান্তে নেমে এল শোকের নীরবতা। একটি গোলই নির্ধারণ করে দিল ২০২৬ বিশ্বকাপের পরিণতি। ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নিল স্পেন। ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বসেরা হয়ে তাদের জার্সিতে যুক্ত হলো দ্বিতীয় তারকা। অন্যদিকে থেমে গেল লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন।
ম্যাচের চিত্রও যেন সেই ফলাফলেরই প্রতিচ্ছবি। পুরো সময়জুড়ে স্পেন ছিল আক্রমণাত্মক, ছন্দময় ও আত্মবিশ্বাসী। বিপরীতে আর্জেন্টিনা লড়াই করেছে শরীরী ফুটবলে, কিন্তু বলের দখল ও সৃজনশীলতায় ছিল স্পষ্ট পিছিয়ে। লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও রদ্রিগো দি পল মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের গতি থামাতেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন। লিসান্দ্রো মার্তিনেজ হলুদ কার্ড দেখলেন, পরে চোটে মাঠও ছাড়লেন। ফলে রক্ষণেও দেখা গেল অস্থিরতা।
তবু এই আর্জেন্টিনাই তো নকআউট পর্বে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় বারবার ফিরে এসেছে। কিন্তু ফাইনালের রাত যেন তাদের জন্য অন্য গল্প লিখে রেখেছিল। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, পুরো ম্যাচে তারা স্পেনের গোলে একটি শটও রাখতে পারেনি—বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে যা বিরলতম পরিসংখ্যানগুলোর একটি।
শুরু থেকেই স্পেনের আক্রমণ ছিল সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো। একটি আক্রমণ শেষ হওয়ার আগেই আরেকটি এসে ভিড়ছিল আর্জেন্টিনার বক্সে। ম্যাচের শুরুতেই লামিন ইয়ামালের দারুণ আক্রমণ থেকে সুযোগ পেয়েছিলেন দানি ওলমো। পরে বল আবার ফিরে আসে ইয়ামালের কাছেই। তার শট লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ে লেগে দিক বদলে নিলে অসাধারণ প্রতিক্রিয়ায় বল ফিরিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। সেই মুহূর্তেই যেন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল—স্পেন আক্রমণ চালিয়ে যাবে, আর মার্তিনেজ একাই লড়বেন প্রতিরোধের শেষ প্রাচীর হয়ে।
অবশেষে ১০৬ মিনিটে সেই প্রাচীরও ভেঙে যায়। ফেরান তোরেসের গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। কিছুক্ষণ পর তিনি আবারও বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। শেষদিকে হুলিয়ানো সিমিওনের হেড অনেকটা ওপর দিয়ে চলে গেলে আর্জেন্টিনার শেষ আশার প্রদীপটিও নিভে যায়।
শেষ বাঁশি বাজাতেই রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের দিকে না তাকিয়ে স্পেনের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ ছুটে যান মাঠে। আনন্দে ভেঙে পড়ে পুরো বেঞ্চ। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে, আবারও শিরোপা জিতে স্পেন প্রমাণ করল—নতুন প্রজন্মের হাত ধরেই শুরু হয়েছে তাদের ফুটবল সাম্রাজ্যের আরেকটি স্বর্ণালি অধ্যায়।
