রাতে শাহবাগে অবস্থানের ঘোষণা ইনকিলাব মঞ্চের
ঢাকা টুডে ২৪ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৪৮ পিএম
চলছে ইনকিলাব মঞ্চের অবরোধ
শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি না করা পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নেওয়ার পর রাতে সংগঠনটির নেতারা টানা অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, সরকারের উপদেষ্টারা জনগণের সামনে এসে জবাব না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা শাহবাগ ছাড়বেন না। শুধু উপস্থিত হলেই চলবে না—হত্যার পরিকল্পনাকারী, হত্যাকারী এবং তাঁদের ভারতে পালাতে সহায়তাকারীদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে অবস্থান চলবে।
শুক্রবার রাতেও শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন সংগঠনটির নেতা–কর্মীরা। এ সময় আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘আমরা সারারাত এখানেই থাকব। কম্বল আনা হয়েছে। হাদি ভাই জীবিত থাকতে এই কম্বল কিনেছিলেন বস্ত্রহীন মানুষের জন্য। কর্মসূচি শেষ হলে সেগুলো তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।’
অবরোধ কর্মসূচির কারণে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তবে শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য একটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা। এ বিষয়ে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘সকাল নয়টা থেকে আমরা চারপাশে অবস্থান নেব, যাতে পরীক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পারেন। তবে অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না।’
শাহবাগে অবস্থান নিয়ে ওসমান হাদির ভাই শরিফ ওমর বিন হাদি বলেন, দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না। প্রয়োজনে ক্যান্টনমেন্ট বা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচিও ঘোষণা করতে হবে।’
শুক্রবার বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চ তাদের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দেশের জনগণকে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে শাহবাগে এসে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানায়। এতে সংগঠনের নেতা–কর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ কর্মসূচিতে যোগ দেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মুখ হিসেবে পরিচিত ওসমান হাদি গত বছরের আগস্টে ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেন। ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তাঁর উচ্চকণ্ঠ ভূমিকা তাঁকে আলোচনায় নিয়ে আসে। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন।
গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছু পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। মাথায় গুলিবর্ষণের পর হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
২০ ডিসেম্বর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিস্থলের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।
এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ও র্যাব ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে গুলিবর্ষণকারী হিসেবে চিহ্নিত ফয়সাল করিম মাসুদ এখনো পলাতক। তাঁর বাবা, মা ও স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, তিনি ভারতে পালিয়ে গেছেন।
