Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ভূখণ্ড বিনিময়ের সম্ভাবনা

Icon

ঢাকা টুডে ২৪ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:০৭ পিএম

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ভূখণ্ড বিনিময়ের সম্ভাবনা

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন গতি পেয়েছে। সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে দখলকৃত কিছু ভূখণ্ড বিনিময়ে সম্মত হতে পারেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন—এমন ইঙ্গিত দিয়েছে রুশ প্রভাবশালী দৈনিক কমেরসান্ত। তবে যেকোনো সমঝোতার ক্ষেত্রেই দনবাস অঞ্চল রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রশ্নে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন তিনি।

ক্রেমলিন বিষয়ক সংবাদদাতা আন্দ্রেই কোলেসনিকভের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ডিসেম্বর রাতে ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত এক বন্ধ বৈঠকে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যুদ্ধ ও সম্ভাব্য শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন পুতিন। সেখানে তিনি জানান, দনবাসের বাইরে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা কিছু অঞ্চলের আংশিক হস্তান্তর বা বিনিময় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

পুতিন ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেন যে, অতীতে আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে যে নীতিগত ছাড়ের কথা বলা হয়েছিল, রাশিয়া এখনো সেই অবস্থানেই রয়েছে। অর্থাৎ দনবাস রাশিয়ার অংশ হিসেবেই থাকবে—এই নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না। তবে দনবাসের বাইরে ইউক্রেনের কিছু দখলকৃত ভূখণ্ড নিয়ে আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ নয় বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল একটি ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা দনবাসের অবশিষ্ট অংশ রাশিয়ার হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি।

জেলেনস্কি আরও জানান, রুশ বাহিনীর দখলে থাকা জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা জটিল অবস্থায় রয়েছে। ইউক্রেন এই স্থাপনাটিকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখলেও রাশিয়া এটিকে কৌশলগত সম্পদ হিসেবে ধরে রাখতে চায়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ–পরবর্তী সবচেয়ে ভয়াবহ এই সংঘাত বন্ধের যে অঙ্গীকার করেছিলেন, তা বাস্তবায়নে সক্রিয় রয়েছেন তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। তাঁরা রাশিয়া, ইউক্রেন এবং ইউরোপীয় বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে গত আগস্টে আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে হওয়া শীর্ষ বৈঠকের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, তারা বর্তমানে ২০১৪ সালে সংযুক্ত করা ক্রিমিয়া ছাড়াও দনবাসের প্রায় ৯০ শতাংশ এবং জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসন অঞ্চলের প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এর আগে পুতিন শান্তিচুক্তির শর্ত হিসেবে ইউক্রেনকে দনবাস, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চল থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার এবং ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন।

কমেরসান্ত-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে যৌথ ব্যবস্থাপনার ধারণা আলোচনায় এসেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কেন্দ্রটি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ ইউক্রেনকে সরবরাহ করা হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিং বা ডিজিটাল মুদ্রা উৎপাদন প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছে।

সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতির আলোচনা এগোলেও দনবাস, ভূখণ্ড বিনিময় এবং পারমাণবিক স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ—এই তিন ইস্যুতে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ফলে শান্তির পথ কতটা দ্রুত খুলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

ঢাকা টুডের একটি প্রকাশনা

অনুসরণ করুন