Logo
Logo
×

সারাদেশ

ঘন কুয়াশা ও শীতপ্রবাহে স্থবির জনজীবন

Icon

ঢাকা টুডে ২৪ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:২৭ এএম

ঘন কুয়াশা ও শীতপ্রবাহে স্থবির জনজীবন

ঘন কুয়াশায় লঞ্চ, ফেরি ও ফ্লাইট চলাচলে বিপর্যয়, বাড়ছে শীতের তীব্রতা। ছবি : সংগৃহীত

ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতপ্রবাহের কারণে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্বাভাবিক জনজীবনে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা থেকে রাজধানীর সদরঘাটসহ দক্ষিণাঞ্চলের সব যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরেও নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

হঠাৎ করে লঞ্চ চলাচল বন্ধের ঘোষণায় রাজধানীর সদরঘাটে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী। গন্তব্যে যাওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অনেক যাত্রী রাতভর ঘাটে অপেক্ষা করেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে অন্য পথে যাত্রা শুরু করেন।

নদীপথে ঝুঁকি, বাড়তি সতর্কতা

ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক) মুহম্মদ মোবারক হোসেন জানান, সন্ধ্যার পর কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেড়ে যায় যে বুড়িগঙ্গা নদীতেই সামান্য দূরের কিছু দেখা যাচ্ছিল না। বড় নদীগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এমন অবস্থায় লঞ্চ চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কুয়াশা না কাটা পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে ঘন কুয়াশার মধ্যে দুইটি লঞ্চের সংঘর্ষে চারজন যাত্রী নিহত হন। ওই দুর্ঘটনার পর নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করেছে।

ফেরি চলাচলেও দীর্ঘ বিরতি

ঘন কুয়াশার প্রভাব পড়ে আরিচা–কাজীরহাট নৌপথেও। পদ্মা নদীতে তীব্র কুয়াশার কারণে শনিবার রাত ৯টা থেকে প্রায় ১১ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। রোববার সকাল পৌনে ৯টার দিকে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বিআইডব্লিউটিসির সহকারী ব্যবস্থাপক (আরিচা) আবু আব্দুল্লাহ জানান, দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম থাকায় যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই সাময়িকভাবে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল।

বিমান চলাচলেও বিঘ্ন

ঘন কুয়াশার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শনিবার মধ্যরাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় অন্তত ছয়টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় অবতরণ করতে পারেনি।

শনিবার রাত ১টা থেকে রোববার ভোর ৬টার মধ্যে এসব ফ্লাইট ঢাকায় নামার কথা ছিল। তবে রানওয়ে স্পষ্টভাবে দেখা না যাওয়ায় কিছু ফ্লাইট ঢাকার আকাশে দীর্ঘ সময় চক্কর দিতে থাকে। পরে কুয়াশা কিছুটা কমলে দেরিতে অবতরণ করে। আবার কিছু ফ্লাইট কুয়াশার পূর্বাভাস পেয়ে নির্ধারিত সময়ের পর ঢাকা অভিমুখে যাত্রা শুরু করে।

সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নিকলীতে

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলী এলাকায়—৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, কুড়িগ্রামের রাজারহাট, নীলফামারীর ডিমলা, শ্রীমঙ্গল, কুমিল্লা ও যশোরসহ মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রা ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। রাজধানী ঢাকায় গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

নিকলী আবহাওয়া কার্যালয়ের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আক্তারুজ্জামান ফারুক বলেন, কয়েক দিন ধরেই তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে কমছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় শীতের অনুভূতি আরও বেশি হচ্ছে। সামনে আরও তাপমাত্রা কমতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলমান শীতপ্রবাহের প্রভাব আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জানুয়ারি মাসে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

জনজীবনে চরম দুর্ভোগ

ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রাত থেকে ভোর পর্যন্ত তাপমাত্রা অনেকখানি নেমে যাওয়ায় সঙ্গে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাস যোগ হয়ে পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও খেটে খাওয়া মানুষ।

বগুড়ার নাজাগড় শ্রমিক বাজারে দুপুর পর্যন্ত বসেও অনেক দিনমজুর কাজ পাননি। কাহালুর বীরকেদার এলাকার দিনমজুর মহসিন আলী বলেন, প্রতিদিন যাতায়াতে ৬০ টাকা খরচ হয়। কিন্তু শীতের কারণে টানা তিন দিন কোনো কাজ নেই। আশায় বসে থাকলেও খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।

রিকশাচালক মিনহাজুল ইসলাম জানান, আগে দিনে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় হলেও এখন ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি হয় না। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না।

একই অবস্থা নাটোর, সিরাজগঞ্জের চলনবিলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। শীতের কারণে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি ও জমিতে চারা রোপণের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় মানুষ খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে।

শীতের বাজারে বাড়তি ব্যস্ততা

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হকার্স মার্কেট ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে গরম কাপড়ের বিক্রি বেড়েছে। লেপ-তোশক তৈরির কারখানাগুলোতেও বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। তবে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য শীত নিবারণের উপকরণ এখনো পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ করছেন অনেকেই।

ঢাকা টুডের একটি প্রকাশনা

অনুসরণ করুন