সিলেটে অনুষ্ঠিত হলো জেসিআই বরিশালের ‘ব্রিজ টু ক্যারিয়ার ১.১’
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫১ এএম
তরুণদের ক্যারিয়ার উন্নয়ন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে জেসিআই বরিশালের উদ্যোগে সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ব্রিজ টু ক্যারিয়ার ১.১ – সিলেট ডিভিশন’।
‘লার্ন, কানেক্ট এন্ড গেট হায়ার্ড!’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ ক্যারিয়ারভিত্তিক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, দক্ষতা উন্নয়ন, নেতৃত্ব এবং কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনটির সহযোগী হিসেবে ছিল লিডিং ইউনিভার্সিটি বিজনেস ক্লাব (LUBC)।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে শুধু একাডেমিক শিক্ষাই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্ব, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, পেশাগত আচরণ এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা অর্জন জরুরি। শিক্ষাজীবন থেকেই এসব বিষয়ে প্রস্তুতি নিলে তরুণরা কর্মজীবনে নিজেদের আরও কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।

আয়োজনে শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ও পেশাগত উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন সেশনের আয়োজন করা হয়। এসব সেশনে ক্যারিয়ারের লক্ষ্য নির্ধারণ, নিজের দক্ষতা ও আগ্রহ চিহ্নিত করা, চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করা এবং কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি তরুণদের নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ এবং পেশাগত জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির বিষয়েও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ক্যারিয়ার মাস্টারক্লাস। এতে অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেন। চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য আয়োজন করা হয় অন-সাইট সিভি কালেকশন কার্যক্রম। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী তরুণরা নিজেদের সিভি জমা দেওয়ার পাশাপাশি নিয়োগপ্রক্রিয়া, চাকরির প্রস্তুতি এবং পেশাগত সুযোগ সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাওয়ার সুযোগ পান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ডিন প্রফেসর ড. বশির আহমেদ ভূইয়াঁ।
অনুষ্ঠানে কিনোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন জেসিআই বরিশালের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং প্লাটিনাম গ্রুপের হেড অব বিজনেস মো. আক্তার হোসাইন। তরুণদের উদ্দেশে তিনি ক্যারিয়ার গঠনে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ, নেতৃত্বের সক্ষমতা অর্জন, পেশাগত প্রস্তুতি এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রের চাহিদা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন। তিনি তরুণদের নিজেদের দক্ষতা নিয়মিত উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেসিআই বরিশালের লোকাল প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার ফারজানা আক্তার এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কিবরিয়া সারওয়ার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হেড প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহানশাহ মোল্লা। পুরো আয়োজনের সমন্বয় করেন একই বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর জয়নভ সরকার।
আয়োজনটি সফল করতে কো-স্পনসর হিসেবে সহযোগিতা করেছে গিয়ারলঞ্চ, জিরান সিকিউরিটি এবং Sync IT Bangladesh। তাদের সহযোগিতায় ক্যারিয়ার মাস্টারক্লাস, সিভি কালেকশনসহ অনুষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
আয়োজকরা জানান, ‘ব্রিজ টু ক্যারিয়ার’ মূলত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবী জগতের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধ তৈরি করার উদ্যোগ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরির জন্য প্রস্তুত করা নয়, বরং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তা এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে পরিচিত করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
জেসিআই বরিশালের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, তরুণদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিল্পখাত ও পেশাজীবীদের যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে তাদের ক্যারিয়ার সম্পর্কে বাস্তবধর্মী ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
লিডিং ইউনিভার্সিটি বিজনেস ক্লাব (LUBC)-এর সহযোগিতায় সিলেটে আয়োজিত ‘ব্রিজ টু ক্যারিয়ার ১.১’ শিক্ষার্থী ও তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং চাকরির প্রস্তুতি সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা লাভের পাশাপাশি পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পান।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘ব্রিজ টু ক্যারিয়ার’ উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তরুণদের জন্য এমন আরও কার্যক্রম আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষাজীবন থেকে কর্মজীবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে তরুণদের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হবে এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এ উদ্যোগ।
