সড়ক দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত সমাজের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বিচার হয় না: উপদেষ্টা নাহিদ
ঢাকা টুডে ২৪ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৩:৪২ এএম
অন্তবর্তী সরকারের তথ্য, সম্প্রচার ও টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম
অন্তবর্তী সরকারের তথ্য, সম্প্রচার ও টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সমাজের উচ্চপর্যায়ের কেউ দুর্ঘটনায় জড়িত থাকলে বিচার হয় না—এমন ধারণা তৈরি হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার ভোরে রাজধানীর পূর্বাচলে বেপোরায়া গতির প্রাইভেট কারের ধাক্কায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক শিক্ষার্থী নিহত হন। ওই প্রাইভেট কার চালাচ্ছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তার সন্তান।
উপদেষ্টা নাহিদ এই ঘটনা তুলে ধরে বলেন, ‘বুয়েটের একজন মারা গেল। একটা ধারণা যে সমাজের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে যাঁরা আছেন, তাঁদের বিচার হয় না, জবাবদিহি হয় না। এখানে সাধারণ মানুষদের জীবনটাই আসলে যায়। এই চিত্র আমাদের সমাজে আছে। এটার পরিবর্তন দরকার।
‘সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কার’ শীর্ষক ‘জাতীয় সংলাপ’–এ নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন। আজ শনিবার রাজধানীর সার্কিট হাউস–সংলগ্ন প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশে এ অনুষ্ঠান হয়। এর আয়োজন করে বেসরকারি সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। দিনব্যাপী এই সংলাপে সড়ককেন্দ্রিক বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও পরিবহন সেক্টরের অংশীদারজন তাঁদের মতামত ও বক্তব্য তুলে ধরবেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সবাইক বিচারের আওতায় আনা দরকার। এখানে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। উন্নয়নের নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে।
পরিবহন খাতে দুর্নীতি চলমান আছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, আগের দল দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল, আবার এখন আরেক দল রয়েছে। এই দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। এখানে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা প্রয়োজন। কারণ, রাজনৈতিক কর্মীরাই এগুলোয় জড়িত।
পরিবহন খাতের সমস্যা বহুমুখী বলে মনে করেন উপদেষ্টা নাহিদ। তিনি বলেন, ‘এখানে দুর্নীতির সমস্যা রয়েছে। রাজনৈতিকীকরণের সমস্যা রয়েছে। শিক্ষা ও জনসচেতনতার সমস্যা রয়েছে। আমাদের অদক্ষতা ও নিয়মনীতি না মানার বাস্তবতা আছে। এখানে বহুমাত্রিক সমস্যা, তাই এটার সমাধানও চ্যালেঞ্জের। সব অংশীদারজনকে একত্রে আনতে হবে। এখানে রাজনৈতিক চাপ থাকবে। এখানে একটা সুবিধাভোগী গোষ্ঠী জড়িত।’
নাহিদ বলেন, ‘২০১৮ সালের কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ছিল আমাদের জন্য মূল ভিত্তি। সে সময় স্কুল–কলেজের দুজন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে এই আন্দোলন শুরু হয়।’
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘মানুষের দীর্ঘদিনের একটা ক্ষোভ ছিল। নিরাপদ সড়ক না থাকায় মানুষের ভোগান্তি ছিল। ওই আন্দোলন সে সময় সহিংসভাবে দমনের চেষ্টা করে সেই সময়ের সরকার। বিগত ১৫ থেকে ১৬ বছর আমরা উন্নয়নের একটা গল্প শুনেছি। ব্যপক উন্নয়ন বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের একটা ন্যারেটিভ। সরকার উন্নয়ন করছে। আমরাও দেখতে পেয়েছি অনেক রাস্তাঘাট, মহাসড়ক, সেতু হয়েছে।’
